সেই মেয়েটি

 আমার বাবার চাচাতো ভাইয়ের বিয়েতে কনে পক্ষের বাড়িতে দাওয়াত খাওয়ার জন্য সবাই যাবে। কে কে যাবে এটা নিয়ে আলোচনা করতেছে। আলোচনায় সিদ্ধান্ত হলো পঁচিশ জন যাবে। কিন্তু মনে হয় আমার যাওয়া হবেনা।আর এমনিতেই আমার তেমন ইচ্ছে নেই। কারণ যেতে হবে কুমিল্লা। আমাদের বাড়ি থেকে প্রায় 💯 কিলোমিটার দূরে। যাইহোক সকালে সবাই যাওয়ার জন্য সবাই প্রস্তুত । গাড়িতে উঠতেছে সবাই। আমি তাকিয়ে দেখলাম। হঠাৎ দেখি যে আমার পছন্দের মেয়েটি মানি আমি যাকে ভালোবাসি সেও তার মায়ের সাথে গাড়িতে উঠতেছে। আমি তো অবাক হয়ে গেলাম। যেখানে আমার পছন্দের মানুষটি যাচ্ছে কিন্তু আমি যাচ্ছি না। এটা কোন কথা। কিভাবে যে যাবে আমার মনে তো আর মানে না। কান্না কাটি শুরু করলাম। যেভাবেই হোক আমাকে যেতে হবে। অবশেষে আমাকে নিবে। তবে সীট নেই। যেতে হবে সীট ছাড়া। আমি বললাম সমস্যা নেই। আমার প্রিয় মানুষটির জন্য এই সামান্য কষ্ট করা কোন ব্যাপার না। গাড়িতে উঠলাম। আমাকে দেখে সে হেসে দিল। মূলত আমি তার হাসির প্রেমে পড়েছি। যাইহোক যাত্রা শুরু করলাম। আমি তার দিকে তাকিয়ে রইলাম সে আমার দিকে। হঠাৎ গাড়িতে বমি করার শব্দ। দেখলাম তার আম্মু বমি করছে। কারণ তার আম্মু গাড়িতে লং ড্রাইভে যাওয়ার অভ্যাস নেই, ঠিক আমার মায়ের মতো। হটাৎ দেখলাম সে তার আম্মু কে তেঁতুল দিচ্ছে। তারা আগেই প্রস্তুতি নিয়েছে। যাইহোক পরে দেখলাম সবাই কে একটু একটু করে তেঁতুল দিচ্ছে আমাকে ও দিল। পরে আমি মনে মনে দোয়া করতে থাকলাম তার যেন কিছু না হয়। যাইহোক মাইক্রোর ভিতরে থাকাই সময় টা ঠিক বুঝে উঠতে পারছিলাম না। আমার ভালবাসার মানুষটির দিকে দেখে কিভাবে যে সময় চলে গেল তিন ঘণ্টা। হঠাৎ ড্রাইভার বলল আমরা জ্যামে পড়লাম। আমি বললাম আমরা কোথায়? ড্রাইভার বলল আমরা কুমিল্লা বিশ্বরোড। আমরা এত দ্রুত চলে আসলাম কারন কি। যাইহোক ড্রাইভার সবাই কে বললো যে জ্যাম ছাড়তে আদা ঘন্টা সময় লাগবে।তাই সবাই গাড়ি থেকে বের হল। কিছুক্ষণ পর সে বের হল আমি ও বের হলাম। কুমিল্লা বিশ্বরোডের দৃশ্যটা খুব সুন্দর ছিল। বিশেষ করে তাহার উপস্থিতি। রাস্তার দুই পাশে কৃষি জমি, রাস্তার মাঝখানে বিভিন্ন ফুলের গাছ,দুপাশ দিয়ে গাড়ি আশা যাওয়া করছে।  কি সুন্দর দৃশ্য। হঠাৎ দেখি তার একটা ফুল পছন্দ হয়েছে এবং সেটি নেওয়ার চেষ্টা করছে কিন্তু নিতে পারছে না। আমি তার পাশে দাঁড়িয়ে আছি ভাবলাম সে আমাকে নিয়ে দিতে বলবে  কিন্তু না 

বললো অন্য একজন কে কিন্তু সে তার কথা শুনে নাই। পরে আমি তাকে ফুল টা নিয়ে দিলাম। ফুলটি তাকে দিতে পেরে খুব ভালো লাগলো। ফুল দিতে মনে মনে বললাম I love you  

যাইহোক জ্যাম শেষে সবাই গাড়িতে উঠলাম। আবার তার দিকে তাকিয়ে তাকালাম সে আমার দিকে।পরে শুনলাম একজন বলেছিলো আমরা বিয়ে বাড়ীতে চলে এসেছি। আমরা গাড়ি থেকে নেমে পেন্ডেল ভিতরে গিয়ে বসলাম। মহিলা একপাশে পুরুষ ভিন্ন পাশে  গিয়ে বসলাম।সে বসলো আমার পাশে ঠিক আমার বরাবরই।সে আমার দিকে তাকিয়ে হেসে দিল । আমি আমার হাসি আটকাতে পারলাম না। আমার পাশের একজন বললো খাওয়ার সময় হাসাহাসি করা উচিত নয়।

খাবার দাবার শেষ হল। আমি তাকে বললাম চলো কোথাও থেকে ঘুরে আসি, এখন ও বউকে রেডি করে নি। বললো না আমি কোথাও যাবো না আম্মু বকা দিবে। আসলে সে অনেক ভদ্র নম্র মেয়ে ছিল। আমি কোনদিন তাকে অভদ্র ভাবে চলাফেরা করতে দেখি নাই। কারণ তার আব্বু আম্মু ও খুব ভদ্রলোক এবং ভালো মানুষ। 

যাইহোক পরে কিছু পর আমরা বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দিলাম। কিছুক্ষণ পর আমি গাড়িতে ঘুমিয়ে পড়লাম। পরে দেখি আমরা সবাই বাড়িতে চলে এসেছি।   পরে যে যার বাসায় চলে গেছে।




Comments